জনতার কথায় নির্বাচন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, আওয়ামী লীগ, জামাত ও গণতন্ত্র
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দল ও দলের ভোটাররা কতটা গুরুত্বপূর্ণ? গণতন্ত্রের জন্য অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন কেন, কতটা জরুরি? সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কিভাবে সম্ভব? এসব নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি, পেশার মানুষের কথা...

আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও সরকার গঠন করতে পারবে না: মোঃ হারুনুর রশিদ, রিক্সা চালক
একটি রাষ্ট্রে শক্তিশালী বিরোধী দল প্রয়োজন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দল হিসাবে এ রাষ্ট্রের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ । প্রতিপক্ষ দল থাকলে ভোট দিতে আনন্দ কাজ করে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন হলে দেশের উন্নতি হয়। বিগত সময় আওয়ামী লীগ যে সকল কার্যক্রম করেছে আমার মনে হয় না বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্বাচন অংশগ্রহণ করলেও সরকার গঠন করতে পারবে।
গণতন্ত্র চাচ্ছি, অথচ বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে বঞ্চিত করে নির্বাচন করছি - এটা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা: শাকিলা ইসলাম, গৃহিণী
বৃহৎ কোনো রাজনৈতিক দল বাদ রেখে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। এভাবে নির্বাচন হলে বড় সংখ্যক ভোটার ভোট দিতে পারবে না। গণতন্ত্র চাচ্ছি, অথচ বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে বঞ্চিত করে নির্বাচন করছি - এটা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা। সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া বিগত সময়ে যে নির্বাচন হয়েছে তা নিয়ে বিতর্ক ছিল। যদি কোনো ব্যক্তির অপরাধ থাকে, তার বিচার করতে হবে। রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে ভোটে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়া আমি সমর্থন করি না।
আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে কোনো ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হবে না: মোঃ আব্দুল কুদ্দুস, অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী ও মুক্তিযোদ্ধা
বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমার ব্যক্তিগত মত হলো—বিগত বছরগুলোতে আওয়ামী লীগের নানা কর্মকাণ্ড দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে যেভাবে প্রভাবিত করেছে, তার প্রেক্ষিতে দলটি নির্বাচন থেকে দূরে থাকলেও দেশে কোনো বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হবে না।গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সকল দলের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও বৃহৎ জনগোষ্ঠী যদি ভোট প্রদান করে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে, তাহলে সেই সিদ্ধান্তকে অবশ্যই সম্মান জানানো উচিত।
আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিতে পারে: অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুব
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ বহু পুরোনো ও প্রভাব বিস্তারকারী শক্তি৷ তাদের ছাড়া নির্বাচন কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সংশয় দেখা দিতে পারে। বর্তমানে আওয়ামী সন্ত্রাসের ভয়কে রাজনৈতিক বাস্তবতা হিসেবে কেউই দৃশ্যত বিবেচনা করছে না। তাহলে নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়ার কারণ কী? বরং প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ দিলে ভোটাররাই তাদের প্রকৃত রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করতে পারবে।
আওয়ামিলীগের দায়িত্বশীল প্রতিটি নেতার বিচার প্রয়োজন, তবে...: ইফতেখার উদ্দিন ফয়সাল, ব্যাবসায়ী
ফ্যাসিস্ট, অত্যাচারী ও গণ হত্যাকারী হিসেবে আওয়ামিলীগের দায়িত্বশীল প্রতিটি নেতার বিচার অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘ ১৬ বছর পরে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর আবার মুক্ত চিন্তা, মতামত ও গণতন্ত্র চর্চায় বাধা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নির্বাচনে প্রতিটি দলের অংশগ্রহণ জরুরি। একইসাথে গণভোটের মাধ্যমে আওয়ামিলীগ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত জনগণের কাছ থেকে আসা উচিত।
আওয়ামিলীগের সমর্থকরা ছাড়া সাধারণ মানুষ নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ চায় না: সামছুল আরেফিন রুপম, ব্যাংকার
গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্যে আওয়ামিলীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ দরকার।কিন্তু তাদের কার্যক্রমে মানুষ এতটাই বিরক্ত যে, তাদের সমর্থক ছাড়া সাধারণ মানুষ নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ চায় না। আমিও এইবার আওয়ামিলীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ চাই না।
আমি আসলে আওয়ামী লীগ ও জামাত - দুই দলেরই নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে না: মার্জিয়া প্রভা, উন্নয়নকর্মী
কোনো গণহত্যাকারী দল জনগণের পূর্ণসম্মতি ও প্রায়শ্চিত্ত ছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার নৈতিকতা হারায়। সেই হিসেবে ৭১-এর গণহত্যাকারী দল জামায়াতে ইসলাম এবং ২৪-এর গণহত্যাকারী দল আওয়ামীলীগ উভয়ই নির্বাচনে দাঁড়ানো ও জনপ্রতিনিধি হওয়ার নৈতিক অবস্থান রাখে না। এই নির্বাচনে আওয়ামীলীগের অংশ নেওয়ার নৈতিকতা নেই। আমি এই দুই দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষেই আসলে না।
আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হবে, যা অন্যান্য দলের জন্য সুযোগ তৈরি করবে: আনিলা তাবাস্সুম হৃদি, ফ্যাশন মডেল
আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে আগামী নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। দলটির অনুপস্থিতিতে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হবে, যা অন্যান্য দলের জন্য সুযোগ তৈরি করবে। তবে, এটা বলা যায় যে, আওয়ামী লীগের সমর্থকরা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা গণতন্ত্রবিরোধী: মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন: আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
বর্তমান সরকার, আওয়ামীলীগকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মাধ্যমে ‘নিষিদ্ধ’ করেছে এবং নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন স্থগিত করেছে,সেকারণে আওয়ামীলীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কোনো সুযোগ নেই। ইতিপূর্বে, আওয়ামীলীগ সরকার জামাতকে নিষিদ্ধ করেছিল। কিন্তু, এভাবে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা উচিত নয়, কারণ, এটা গণতন্ত্রবিরোধী।
আওয়ামী লীগ না থাকলেও জনগণের অংশগ্রহণ সঠিকভাবে হলে আগামী নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে পারে: রেদওয়ান আহমেদ, সাংবাদিক ও ফ্রি এক্সপ্রেশন স্কলার
পনের বছরের একনায়কতান্ত্রিক শাসন থেকে আওয়ামী লীগকে মানুষ ভায়োলেন্ট, কিন্তু পপুলার আপরাইজিং-এর মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করেছে। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ প্রত্যাশিতও ছিল না। আওয়ামী লীগ না থাকলেও জনগণের অংশগ্রহণ সঠিকভাবে হলে নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে পারে। তবে আওয়ামী লীগ শেষ দু-তিনটা নির্বাচনে ভোটার-উপস্থিতি নিয়ে যেই মিথ্যাচার করেছে, অন্তর্বর্তী সরকার সেরকম করে পার পাবে না।