তনু হত্যা মামলা: ১০ বছর পর সাবেক সেনাসদস্য গ্রেপ্তার
২২ এপ্রিল ২০২৬
আদালত ওই আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন বলে জানিয়েছে ডয়চে ভেলের কন্টেন্ট পার্টনার দৈনিক প্রথম আলো৷
গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমান (৫২) সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার৷ ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যান৷ তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন৷
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই৷ আজ বুধবার বিকেলে তাকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মো. মমিনুল হকের আদালতে হাজির করা হয়৷ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম গ্রেপ্তার হাফিজুরের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন৷ শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন৷ আদালতে তনুর মা, বাবা ও ভাই উপস্থিত ছিলেন৷
তিন জনের ডিএনএর নমুনা মেলানোর আবেদন
এর আগে ৬ এপ্রিল মুমিনুল হকের আদালতে হাজির হন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা৷ আদালতের তলবের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আদালতে হাজির হন৷ এ সময় তিনি মামলার অগ্রগতি জানানোর পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিনজনের ডিএনএ নমুনা মেলানোর আবেদন করেন৷ আদালত তার আবেদনে সম্মতি দেন৷ ওই তিনজনের একজন হলেন সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান৷ অপর দুজন হলেন ঘটনার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক শাহীন আলম৷ তারাও সেনাবাহিনী থেকে অবসরে আছেন৷
তনুর বাবার দাবি
মামলার বাদী ও তনুর বাবা ইয়ার হোসেনের দাবি, সৈনিকের নাম শাহীন আলম নয়, জাহিদ হবে৷ তারা ঘটনার শুরু থেকেই নামগুলোর কথা বলে আসছেন৷ শাহীন নামে কোনো সৈনিকের কথা তারা তখন জানেননি, সৈনিক জাহিদের নামটি বারবার আলোচনায় এসেছে৷
তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘‘গতকাল কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ তাকে তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ কুমিল্লার আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়৷ শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন৷ আমরা তাকে নিয়ে ঢাকায় ফিরে যাচ্ছি৷ রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে৷''
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু৷ পরে খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তনুর লাশ পাওয়া যায়৷ পরদিন তার বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন৷ ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল ও ১২ জুন দুই দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তনুর মৃত্যুর কারণ খুঁজে না পাওয়ার তথ্য জানায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ৷
এই হত্যাকাণ্ডের শেষ ভরসা ছিল ডিএনএ রিপোর্ট৷ ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানায়৷ এ ছাড়া তনুর মায়ের সন্দেহ করা তিনজনকে ২০১৭ সালের ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সিআইডির একটি দল ঢাকা সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদ করে৷ তবে ওই সময় তাদের নাম গণমাধ্যমকে জানায়নি সিআইডি৷
এসিবি/ জেডএইচ (প্রথম আলো)