1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

পশ্চিমবঙ্গের ফলতায় বিধানসভার উপনির্বাচনে তৃণমূল নেই কেন

২০ মে ২০২৬

রাত পোহালেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ফলতা বিধানসভায় উপনির্বাচন৷ সদ্য ক্ষমতা হারানো তৃণমূল লড়াইতেই নেই৷ কেন এই অবস্থা?

https://p.dw.com/p/5E3Qq
ছবিতে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের দেখা যাচ্ছে
পশ্চিমবঙ্গের ফলতায় বিধানসভার উপনির্বাচনছবি: Sahiba Chawdhary/REUTERS

২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় ভোটগ্রহণ করা হয়৷ কয়েকটি বুথে কারচুপির অভিযোগ ওঠায় গোটা কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার ফের ভোট নেয়া হবে৷ কিন্তু তার আগে লড়াই থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন তৃণমূলের প্রার্থী ও বিদায়ী বিধায়ক জাহাঙ্গীর খান৷

খাসতালুকে নেই তৃণমূল

২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে সাত লক্ষের বেশি ভোটে ডায়মন্ডহারবার কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এই ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে তার লিড ছিল এক লক্ষ ৮৩ হাজারের বেশি৷ মোট ভোটের প্রায় ৭০ শতাংশ পড়েছিল জোড়াফুল চিহ্নে৷ এমন একটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী৷

৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে এলাকাছাড়া ছিলেন জাহাঙ্গীর৷ পুলিশ তাকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে যায় কয়েকদিন আগে৷ তা সত্ত্বেও প্রচার বেরোননি তৃণমূল প্রার্থী৷ দলের কোনো নেতা ফলতায় প্রচার করতে যাননি৷ উল্টে গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় আদালতে গিয়ে রক্ষাকবচ নিয়েছেন এই দাপুটে নেতা৷

তৃণমূল অবশ্য জানিয়েছে, প্রার্থী প্রত্যাহার দলগত কোনো সিদ্ধান্ত নয়৷ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে জাহাঙ্গীর সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন৷ নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, প্রার্থী পদ প্রত্যাহারের শেষ সময় চলে যাওয়ায় ইভিএমএ তৃণমূলের প্রতীক ও প্রার্থীর নাম থাকবে৷

এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে দুবার প্রচারে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ প্রচার করেছেন বাম ও কংগ্রেস প্রার্থীরা৷ কিন্তু নির্বাচনের আগের দিন, বুধবার জাহাঙ্গীরের পাড়াতেই তৃণমূলের পতাকা দেখা যাচ্ছে না৷ বিজেপির দাবি, হার নিশ্চিত বুঝেই সরে দাঁড়িয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী৷

রাজনৈতিক বিশ্লেষক, অধ্যাপক দেবাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় ডিডাব্লিউকে বলেন, ‘‘২০২১–এর পর থেকে ডায়মন্ডহারবার মডেলে ভোট লুট করা হয়েছিল৷ এখানে ৬৫ শতাংশের মতো হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন৷ তারা ভোট দিতে পারেননি গত কয়েকটা নির্বাচনে৷ এ বার মানুষ ভোট দিতে পারবেন, এই ভরসা পেয়েছেন৷ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে৷ নিজেকে সিনেমার চরিত্র পুষ্পার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন জাহাঙ্গীর৷ কিন্তু চার তারিখ ফল বেরোনোর পরে তিনি এলাকায় ছিলেন না৷ ৬৫ শতাংশ মানুষের ভোট চুরি করা হয়েছিল এত বছর৷ এই ভোটাররা এবার প্রতিশোধের ভোট দেবেন৷ তাই তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়ক থাকা সত্ত্বেও তারা এখানে লড়াইয়ে নেই৷ জাহাঙ্গীরের বিদায়ে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোট চূর্ণ–বিচূর্ণ হতে চলেছে৷ এই অহিন্দু মুসলমান ভোট ভাগ হয়ে যাবে কংগ্রেস ও সিপিএমের মধ্যে৷''

ক্ষমতা হারানোর সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে নিজেদের দুর্গ এলাকায় লড়াই থেকে প্রার্থীর একক সিদ্ধান্তে সরে দাঁড়ানোয় বোঝা যাচ্ছে, তৃণমূল হারের ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি৷ আরো একাধিক ঘটনায় এই দুর্বলতা সামনে এসেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা৷

 

কোনও কর্মসূচি নেই

৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে দুই সপ্তাহের বেশি কেটে গিয়েছে৷ কিন্তু মঙ্গলবার পর্যন্ত কেন্দ্রীয়ভাবে তৃণমূল কোনো দলীয় কর্মসূচি নেয়নি৷ অথচ এই সময়ের মধ্যে নয়া রাজ্য সরকার একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ এর মধ্যে গবাদি পশু সংক্রান্ত আইন কার্যকর করা, ধর্মস্থানে শব্দবিধি মেনে চলার জন্য পুলিশের তৎপরতা চোখে পড়েছে৷ তিলজলায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে বুলডোজার পাঠিয়েছে প্রশাসন৷ বাম, আইএসএফ নেতৃত্ব রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করলেও দেখা যায়নি তৃণমূল নেতাদের৷

গরহাজির অধিকাংশ বিধায়ক

ভোটে হারের পরে তৃণমূলের প্রথম কর্মসূচি ছিল বুধবার, বিধানসভায়৷ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন নীতির প্রতিবাদে বিধানসভা চত্বরে আম্বেদকর মূর্তির নীচে ধর্নায় বসেছিলেন তৃণমূলের বিধায়করা৷ সেখানে ৩০ জনের মতো বিধায়ক হাজির ছিলেন৷ অথচ ৮০ জন বিধায়ক জোড়াফুলের টিকিটে ভোটে জিতেছেন৷ প্রথম দলীয় কর্মসূচিতেই কেন গরহাজির বড় অংশের বিধায়ক? এর কারণ ব্যাখ্যায় বিধায়ক কুণাল ঘোষ সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘আমরা কয়েকজন এখানে ধর্নায় বসেছি৷ বাকিরা নিজেদের এলাকায় আছেন, আক্রান্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন৷ কোনও সময় আমরা এলাকায় থাকব, আজ যারা অনুপস্থিত, তারা ধর্নায় থাকবেন৷'

পুরসভার নোটিস অভিষেককে

কলকাতা পুরসভায় নিরঙ্কুশ ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূল৷ রাজ্যের কোনও পুরসভাই বিজেপির হাতে নেই৷ অথচ কলকাতা পুরসভা থেকে তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নোটিস গিয়েছে৷ বিল্ডিং বিভাগ থেকে দুটি নোটিস পাঠানো হয়েছে৷ অভিযোগ, অভিষেকের দু'টি ঠিকানায় অবৈধ নির্মাণ হয়েছে৷ পুরসভা তৃণমূলের হাতে থাকা সত্ত্বেও কীভাবে নোটিস পেলেন অভিষেক? মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছে, এ ব্যাপারে তার কিছু জানা নেই৷ জানার কথা নয়৷ অভিষেকই এ ব্যাপারে বলতে পারবেন৷ এ ছাড়া গড়িয়ার একাধিক জায়গায় ক্লক টাওয়ার–সহ সৌন্দর্যায়নের বিভিন্ন ম্যুরাল পুরসভা বুলডোজার পাঠিয়ে ভেঙে দিয়েছে বেআইনি নির্মাণের কারণ দেখিয়ে৷ প্রশ্ন উঠেছে, রাজ্যের ভোটে হারতে কি স্থানীয় প্রশাসনেও তৃণমূলের রাশ আলগা হয়ে যাচ্ছে?

৩৪ বছর রাজ্য শাসনের পরে ২০১১ সালে বামফ্রন্টকে হারিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিল তৃণমূল৷ সে বার বামফ্রন্টের ৬২ জন বিধায়ক ছিলেন৷ তখনকার সিপিএম ও বামেদের তুলনায় বেশি বিধায়ক নিয়েও এ বার তৃণমূলকে এত হীনবল দেখাচ্ছে কেন?

রাজনৈতিক বিশ্লেষক, অধ্যাপক মইদুল ইসলাম ডিডাব্লিউকে বলেন, ‘‘গোটা রাজ্যে জনসমর্থন চলে যাওয়ার ফলে তৃণমূল হতোদ্যম হয়ে পড়েছে৷ রাজ্যে অন্য দলের সরকার চলে এসেছে৷ পুলিশও পাশে নেই৷ এখন প্রশ্ন হচ্ছে, দলটাকে তৃণমূল কতটা ধরে রাখতে পারবে৷ কত জন বিধায়ক দলের সঙ্গে থাকবেন৷ তৃণমূল যদি লোকসভা নির্বাচন খারাপভাবে হারে, তা হলে খুব কঠিন হয়ে যাবে কাজটা৷ তবে অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন সাংসদ থাকা অবস্থাতেও কামব্যাক করেছেন৷ কিন্তু এখন তার বয়স বাড়ছে, কতটা তিনি লড়াই করতে পারবেন, সেটার উপরে তৃণমূলের ঘুরে দাঁড়ানো নির্ভর করবে৷''

 

গঙ্গাভাঙনে হারিয়েছে ঘর, পরিচয়ও মুছছে এসআইআর

ডয়চে ভেলের কলকাতা প্রতিনিধি পায়েল সামন্ত৷
পায়েল সামন্ত ডয়চে ভেলের কলকাতা প্রতিনিধি৷