1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

মাঝরাতে বুলডোজার যাদবপুরে, উচ্ছেদ, প্রতিবাদ

শময়িতা চক্রবর্তী কলকাতা
৮ জুন ২০২৬

রোববার মধ্যরাতে রণক্ষেত্র যাদবপুর স্টেশন চত্বর। গভীর রাতে বুলডোজার গুঁড়িয়ে দিলো বস্তি, দোকান

https://p.dw.com/p/5EzSu
যাদবপুর স্টেশনের বাইরে বুলডোজার দিয়ে দোকান, বস্তি গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
কলকাতায় একের পর এক স্টেশনে ও তার বাইরে বুলডোজার দিয়ে হকার ও বস্তি উচ্ছেদ হচ্ছে। ছবি: Shamayita Chakraborty/DW

হাওড়া, শিয়ালদহ, দমদমের পর এবার যাদবপুর। রোববার রাতে বুলডোজার এসে গুঁড়িয়ে দিলো স্টেশন লাগোয়া বস্তি এবং দোকান। গৃহহীন হলেন শতাধিক স্থানীয় মানুষ। পুলিশের ব্যাপক লাঠিচার্জে মাথা ফাটে নাট্যকর্মী জয়রাজ ভট্টাচার্যসহ বেশ কয়েকজন বামকর্মী সমর্থকদের। পুলিশের লাঠিতে আহত হন বাম নেতা, অঞ্চলের প্রাক্তন সাংসদ সুজন চক্রবর্তী। গ্রেপ্তার হন ছাত্রনেতা সৃজন ভট্টাচার্যসহ আর অনেকে।

কী ঘটলো রবিবার রাতে?

রোববার সন্ধ্যে থেকেই উচ্ছেদের খবর পেয়ে স্টেশনের শিয়ালদহ-গামী ট্রেনের প্ল্যাটফর্মের সামনে জড়ো হয়েছিলেন বহু মানুষ। মূলত বাম এবং কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের পাশাপাশি অঞ্চলের স্থানীয় মানুষ জড়ো হন স্টেশন চত্বরে। নাট্যকর্মী জয়রাজের পাশাপাশি সঙ্গীতশিল্পী অর্ক মুখোপাধ্যায়, গৌরব চট্টোপাধ্যায়, অভিনেত্রী ঊষসী চক্রবর্তী, গুলশানারা খাতুনসহ বেশ কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিবাদ করতে দেখা যায়।  রাত ১০টা থেকে ঝড়ের গতিতে বাড়তে থাকে পুলিস ফোর্স। কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি জড়ো হতে থাকেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। কিছুক্ষণ পরে পৌঁছয় র‍্যাফ।  

এর মধ্যেই একাধিক বার সৃজন হ্যান্ড মাইকে কর্তৃপক্ষের কাছে আলোচনায় বসতে আবেদন করেন। এদিনের আগে গত সপ্তাহের মঙ্গলবার মধ্যরাতেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তবে সেদিন বুলডোজার চলেনি। সেদিনের ঘটনাকে মনে করিয়ে দিয়ে সৃজন বলেন, "এই উচ্ছেদ অবৈধ। আমাদের কাছে আদালতের কাগজ আছে। আমরা কর্তৃপক্ষকে সেই কাগজ দেখাতে চাই। আমরা বলছি, আলোচনায় আসুন। উচ্ছেদের নামে অবৈধ কাজ করবেন না।"

এর মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দুইটি বুলডোজার। কংগ্রেস কর্মী সমর্থকরা ওই বুলডোজারে উঠে ভারতের সংবিধান হাতে স্লোগান দিতে শুরু করেন। বুলডোজারের সামনে শুয়ে পড়েন আরেক কর্মী। তবে অপেক্ষা ছিল স্টেশন থেকে শেষ ট্রেন যাওয়ার। তারপরেই প্রতিবাদীদের দিকে কার্যত তেড়ে আসে পুলিশ বাহিনী। লাঠি চালায় র‍্যাফ। প্রতিবাদীদের কাউকে সুকান্ত সেতুর দিকে, কাউকে পালবাজের দিকে তাড়াতে থাকেন তারা। আটকে পরেন সুজন, জয়রাজ, অর্করা। ব্যাপক লাঠিচার্জে রক্তাক্ত হন জয়রাজ এবং ঋতব্রত ঘোষ নামে এক বামকর্মীসহ বহু মানুষ। আহত হন আরো অনেকেই। তাদের কেপিসি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

বুলডোজারের সামনে শুয়ে পড়েছেন এক বিক্ষোভকারী।  অনেকে বুলডোজারের উপরে দাঁড়িয়ে।
যাদবপুরে বুলডোজার দিয়ে হকার উচ্ছেদ ও বস্তি ভাঙার প্রতিবাদ করে কংগ্রেস ও বামেরা। ছবি: Shamayita Chakraborty/DW

দুইটি বুলডোজার স্টেশন সাইডিং-এ ঢুকে একের পর এক বাড়ি, দোকান ভেঙে দেয়। বাসিন্দারা পুলিশের হাতে পায়ে ধরলেও কোনো লাভ হয়নি। স্টেশন চত্বরে ভাতের হোটেল চালান অর্চনা মণ্ডল। তিনি ডিডাব্লিউকে বলেন, 'আমার স্বামী প্রতিবন্ধী। আমি হোটেল চালাই। সেই আমাদের একমাত্র উপার্জন। আজকের পর কোথায় যাব জানি না।"   

এই সবের মধ্যেই গ্রেপ্তার হন সৃজন। প্রিজন ভ্যানে ওঠার সময়েও তিনি হাতে রাখা সংবিধান দেখিয়ে বলেন, "আমরা আছি। থাকব। বেআইনি কাজ করছে পুলিস এবং রেল।" তাদের পঞ্চসায়র থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের সোমবার আদালতে পেশ করা হবে।

আইনি জটিলতা

যাদবপুর স্টেশন চত্বরে হকার্সদের বৈধতা নিয়ে আইনজীবী শামিম আহমেদ বলেন, "যদি বাড়িতে বেআইনি নির্মাণও হয়, তারও কিছু নিয়ম আছে। যখন বেআইনি নির্মাণ হয়েছে তখন যদি সরকার কোনো ব্যবস্থা না নেয় এবং সেই বাড়িকে ৪০-৫০ বছর থাকতে দেয়, তাহলে তার অর্থ তারা এই কাজ অনুমোদন করছে।" পুনর্বাসন দিয়ে হকার উচ্ছেদ করা প্রয়োজন, একথাও জানান তিনি। তিনি বলেন, নিজেদের সম্পত্তি রেগুলেট করার অধিকার রেলের  আছে।  তাহলে আমার অধিকার কোথায়? রেলের যে অধিকার রেগুলেট করার আর আমার যে অধিকার বেঁচে থাকার তাকে দেখার দ্বায়িত্ব রাষ্ট্রের।"