1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কোন পথে বাংলাদেশ?

২১ জুন ২০২৬

বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কোন পথে? সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন, নিপীড়ন কি বেড়েছে? নাকি সংখ্যালঘুরা স্বাধীনভাবে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করছেন?

https://p.dw.com/p/5Fmuq
গাজীপুরে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি
গত বছর গাজীপুরে দুর্গাপূজার সময় দুবৃত্তরা হামলা করে মূর্তি ভেঙে ফেলে৷ছবি: DW | Rafik Mollah

পরিসংখ্যান বলছে, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন নিপীড়ন বেড়েছে। এখনও বিচারের আলামত নেই৷

বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন ফ্রন্ট এসব নিপীড়নকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সংঘটিত সুপরিকল্পিত ও ধারাবাহিক সহিংসতা হিসেবে উল্লেখ করে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে বিচারের দাবি জানিয়েছে। ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার'-এ স্লোগানকে সামনে রেখে সাত দফা দাবি জানিয়েছে ফ্রন্ট। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এই তিন মাসে দেশে ১৩৩টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। এসব ঘটনায় ২৫ জন নিহত, অন্তত ১৩টি উপাসনালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ফলে, সার্বিক এই পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় গভীর শঙ্কা ও উদ্বেগের মধ্যে দিন পার করছেন৷

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খন্দকার রফিকুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘যেখানে এই ধরনের খবর পাওয়া যাচ্ছে, দ্রুতই সেগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় কোনো অঘটন ঘটেনি। কোনো ঘটনা পুলিশের নজরে আসার পর একটুও অবহেলা করা হচ্ছে না, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে৷''

পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সাত দফা

১. গত এক মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর সংঘটিত প্রতিটি হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।

২. সিলেটে খগেন্দ্র দাস এবং শরীয়তপুরে শিক্ষক সুজিত কর্মকারকে আক্রমণকারীদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে এবং ‘মব জাস্টিস' বন্ধে কঠোর আইন পাস করতে হবে।

৩. দেশের প্রতিটি মঠ, মন্দির ও শ্মশানের স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং ভাঙচুর হওয়া মন্দিরগুলো রাষ্ট্রীয় খরচে পুনর্র্নিমাণ করে দিতে হবে।

৪. ঠাকুরগাঁও ও শরণখোলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও অগ্নিসংযোগের শিকার পরিবারগুলোকে অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

৫. সনাতন সম্প্রদায়সহ সব ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জানমালের নিরাপত্তার জন্য একটি স্বাধীন ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা কমিশন' গঠন করতে হবে।

৬. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্ট দিয়ে বা গুজব ছড়িয়ে (যেমন: শ্রীরামের ছবি অবমাননা বা মিথ্যা অপবাদ) দেশে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে, তাদের সাইবার নিরাপত্তা আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।

৭. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় কারণে শিক্ষকদের হেনস্তা ও লাঞ্ছিত করা বন্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের শিক্ষক লাঞ্ছনাকারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্ব আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

ফ্রন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক ঘোষিত ৩১ দফার ‘রেইনবো নেশন' চিন্তাধারাকে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন ফ্রন্ট প্রথম থেকেই একটি যুগান্তকারী ও প্রগতিশীল পদক্ষেপ হিসেবে সাধুবাদ জানিয়ে আসছে। তবে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে তারা লক্ষ্য করছেন, সরকারের এ ইতিবাচক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভাবমূর্তিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে ধূলিসাৎ করার জন্য একটি কুচক্রী মহল এবং উগ্রপন্থি গোষ্ঠী সুপরিকল্পিতভাবে মাঠে নেমেছে। তারা হিন্দু সম্প্রদায়কে ‘সফট টার্গেট' হিসেবে ব্যবহার করে দেশে একটি কৃত্রিম অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চায়৷ এর মূল উদ্দেশ্য বর্তমান সরকারকে নাজেহাল ও ব্যর্থ প্রমাণ করা বলেও মনে করছেন তারা৷

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যান ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন সরকার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘কিছু যে ঘটনা ঘটছে সেটা তো আর মিথ্যা না। তবে আমরা সরকারের কাছ থেকে যথাযথ পদক্ষেপ আশা করি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরকার হয়তো ব্যবস্থা নিচ্ছে, কিন্তু আমরা আশা করব সব ক্ষেত্রেই সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।”

কলকাতার এক ডজন বনেদি বাড়ির পুজো

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আট দফা

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এর আগে আট দফা দাবি দিয়েছে। সেই আট দফা দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও একাত্মতা প্রকাশ করছে পূজা উদযাপন ফ্রন্ট।

১. দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন: সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও নির্যাতনের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।

২. সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন: দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার সুনিশ্চিত করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন।

৩. সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয়: সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সুনির্দিষ্ট সমস্যা ও দাবিগুলো সমাধানের জন্য আলাদা একটি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা।

৪. ‘ট্রাস্টকে ফাউন্ডেশনে রূপান্তর: হিন্দু ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টকে একটি পূর্ণাঙ্গ হিন্দু ফাউন্ডেশনে' (বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের জন্যও সমমানের প্রতিষ্ঠান) রূপান্তর করা।

৫. দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণ: মন্দির ও দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষার্থে নতুন আইন প্রণয়ন এবং অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন।

৬. দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ ও হোস্টেলে সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় আচার পালনের জন্য আলাদা প্রার্থনার কক্ষ বা স্থানের ব্যবস্থা করা।

৭. সংস্কৃত ও পালি শিক্ষার আধুনিকীকরণ: সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সংস্কৃত ও পালি শিক্ষা বোর্ডের আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন।

৮. ছুটি বৃদ্ধি: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি বাড়িয়ে পাঁচ দিন করা।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা আশা করেছিলাম একটা নির্বাচিত সরকার আসার পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু আমরা সেটা দেখছি না। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার যে মিথ্যাচার করেছে, সেই জায়গা থেকে আমরা বের হতে পারিনি। এই সরকার যে মানবিক বাংলাদেশের কথা বলেছিল, সেটার প্রতিফলন আমরা দেখছি না। বিশেষ করে সর্বশেষ পলাশবাড়িতে যেটা হলো, সেখানে কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অথচ হিন্দু সম্প্রদায়ের তরুণদের প্রায়ই ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এখনও প্রতি মাসে গড়ে ৫০টির মতো সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা আমরা দেখছি। কিন্তু কোনোটার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিতে আমরা দেখছি না।”

‘আশা ছিল, নির্বাচিত সরকার এলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে‘

সংখ্যালঘু নির্যাতনের কিছু পরিসংখ্যান

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ--এই তিন মাসে দেশে ১৩৩টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। জানুয়ারি মাসে মোট ৪৬টি সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ১১টি হত্যাকাণ্ড, ৯টি মন্দিরে হামলা এবং বিভিন্ন ধরনের ভাঙচুর ও লুটপাট অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফেব্রুয়ারিতে সহিংসতার সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে ৫০টিতে পৌঁছায়। যার মধ্যে আটটি হত্যাকাণ্ড, ১৫টি মন্দিরে হামলা এবং একটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। আর মার্চে ৩৭টি সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়। এর মধ্যে ছয়টি হত্যাকাণ্ড, দুটি ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন এবং ১১টি মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রতি তিন মাস পরপর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এই তথ্য প্রকাশ করে। জুনের শেষে তারা নতুন তথ্য প্রকাশ করবে।

নারী নেত্রী খুশি কবীর ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এখন তো সংসদে যারা বিরোধী দল, তারা তো কট্টরপন্থি। আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সহনশীলতার অভাব। সরকারকে এসব বিষয়ে আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে। একটি ঘটনাও যাতে না ঘটে, যেটার ক্ষেত্রে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, সরকার এসব ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নেবে এবং এর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”

করাচিতে হিন্দু খ্রিষ্টান শিখদের দিনকাল

গাইবান্ধার পলাশবাড়ির ঘটনা

গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ীতে এশিয়ার ‘বৃহত্তম রামমূর্তি' স্থাপন করা হচ্ছিল। ইমাম-উলামা পরিষদ নামে একটি সংগঠনের নেতারা মূর্তি নির্মাণ কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ এবং সংশ্লিষ্ট সব উদ্যোগ বাতিলের দাবি জানান। এমন পরিস্থিতিতে গত গত ১১ জুন নির্মাণ কাজ আপাতত স্থগিত ঘোষণা করেছে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির কমিটি। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানায়, রামমূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহল থেকে নানা ধরনের প্রশ্ন, মতামত ও প্রতিবাদ উঠে এসেছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখা এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এই মন্দিরের নির্মাণকাজ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্দির কমিটির নেতারা বলেন, আমরা বাঙালি। সব ধর্মের মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে বিশ্বাস করি। ভবিষ্যতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, ইমাম উলামা পরিষদ গাইবান্ধা জেলা শাখা ও জেলার সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক সমাজের নামে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে আট দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়৷

ইমাম উলামা পরিষদ গাইবান্ধার জেলা সেক্রেটারি মুফতি মানছুর রহমান খান বলেন, ‘‘আমরা জেলার আলেম, উলামা, ইমাম, খতিব, শিক্ষক, ছাত্র-জনতা ও সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকবৃন্দ গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সাথে লক্ষ্য করছি যে, পলাশবাড়ী হোসেনপুর ইউনিয়নে একটি বৃহৎ রামমূর্তি নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জনশ্রুতি অনুযায়ী এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ রামমূর্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা, উদ্বেগ, ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতায়র অনুভূতি সৃষ্টি করেছে৷ রংপুর বিভাগের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর অঞ্চলে এত বৃহৎ পরিসরে, মন্দিরের বাহিরে রিসোর্ট স্পট বানিয়ে সেখানে প্রকাশ্যে মূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, সামাজিক অস্থিরতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কা দেখা দিয়েছে৷''

গাইবান্ধার পলাশবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সারওয়ার আলম খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, "বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। মন্দিরের নির্মাণ কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে। উভয় পক্ষ শান্তি বজায় রাখার কথা বলেছেন।”

অন্যদিকে রাম মন্দির নির্মাণে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে শুক্রবার রাতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলন করেন সনাতনী সংগঠনের সদস্যরা। রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছিল হিন্দু মহাজোট। শাহবাগ থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি অফিস পর্যন্ত তারা মশাল মিছিল করেন। স্লোগান দেন, ‘জয় শ্রীরাম'। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন ইসলামি জঙ্গি সংগঠন রাম মন্দির নির্মাণে হুমকি দিচ্ছে। তাই তাদের গ্রেপ্তারেরও দাবি করা হয়। ঢাকা ছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘুরা ইসলামি মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। হিন্দু মহাজোটের তরফে বলা হয়েছে, তাদের পলাশবাড়িতে রাম মন্দির গড়তে না দেওয়া হলে ৬৪ জেলাতেই তারা ভগবান রামচন্দ্রের মন্দির গড়ে তুলবেন।

দুর্গাপূজার প্রস্তুতি
[ফাইল ছবি] চলছে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি৷ মৃৎশিল্পী শেষ মুহূর্তে রাঙিয়ে তুলছেন দেবী দুর্গাকে৷ছবি: Mohammad Ponir Hossain/REUTERS

বাগেরহাটে হিন্দু পরিবারের বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট

বাগেরহাটের শরণখোলায় প্রতিপক্ষের হামলায় হিন্দু পরিবারের পাঁচ নারী আহত হয়েছেন৷ তাদের বাড়ি ঘরে লুটপাট কর হয়। ঘটনাটি গত ৬ মে ঘটে। এই ঘটনায় শরণখোলা থানায় মামলা করেছেন গৃহকর্তা রবীন্দ্রনাথ ঢালী (৪৬)। এরপর পুলিশ এজাহারে উল্লেখ থাকা দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। আহত নারীরা হলেন রবীন্দ্রনাথের স্ত্রী সীমা রানী (৩৫), মা দুলালী রানী (৭০), নানি বেলকা রানী (৯০), মাসি বিমলা রানী (৬০) ও লীলা রানী (৬৫)।

মামলার বাদী রবীন্দ্রনাথ ঢালী অভিযোগ করেছেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তার বসতবাড়িতে হামলা করে সবকিছু ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে তার প্রতিপক্ষ। তারা টাকা, স্বর্ণালংকার, জমির দলিল ও মূল্যবান কাগজপত্র নিয়ে গেছে। হামলায় তার বৃদ্ধা মা ও নানি গুরুতর আহন হন। আহত হয়েছেন তার স্ত্রী ও দুই মাসী।

শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামিনুল হক ডয়চে ভেলেকে বলেন, "মূলত জমি নিয়ে বিরোধ থেকে ঘটনার সূত্রপাত। এ নিয়ে ২৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২৫ থেকে ৩০ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা হয়েছে। এরই মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যহত রয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।”

‘শিক্ষক, অধ্যাপকদের জোর করে পদত্যাগ করানো হচ্ছে‘

শরীয়তপুরে বিদ্যালয় গেটে মারধরের শিকার প্রধান শিক্ষক

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলা সদরের ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিৎ কর্মকারকে গত ৭ জুন স্কুল গেটে মারধর করা হয়। সকাল ১০টায় বিদ্যালয়ের ফটকে কয়েকজন তরুণ তাকে বিদ্যালয়ে ঢুকতে বাধা দেয়। এরপর মারধর করে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠিয়ে দেওয়া হয়। আহত ওই শিক্ষক শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

জানা যায়, ডামুড্যা উপজেলা সদরে ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অবস্থিত। প্রধান শিক্ষক হিসেবে সুজিৎ কর্মকার ২০১৩ সালে সেখানে নিয়োগ পান। দুই বছর আগে স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই পক্ষটি তার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের হেনস্তা করার অভিযোগ তোলেন। ওই বিরোধের জেরে ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর প্রধান শিক্ষক সুজিৎ কর্মকারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয় স্থানীয় প্রশাসনের কাছে। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছর ১৮ সেপ্টেম্বরের পর আর তিনি বিদ্যালয়ে যাননি। বিভিন্নভাবে ছুটি কাটিয়ে যাচ্ছিলেন। ৭ জুন সকালে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে প্রধান শিক্ষক সুজিৎ কর্মকার বিদ্যালয় ফটকের সামনে যান। অটোরিকশা থেকে নামার পর কয়েকজন তরুণ তাকে মারধর করতে থাকেন। আবার কয়েকজন তরুণ তাকে অটোরিকশায় উঠিয়ে দেন।

ডামুড্যা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম ডয়চে ভেলেকে বলেন, "প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ পেয়েছি। এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে কয়েক দফা অভিযান চালানো হয়েছে৷ কিন্তু কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। দ্রুতই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।”

সিলেটে ‘মব', ব্যবসায়ীকে পিটুনি

‘আদালতে হাজিরের পর বাদির দাবি, এদের নাম ভুল করে দেওয়া হয়েছে’

সিলেট শহরে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলে ‘মব' সৃষ্টি করে এক ব্যবসায়ীকে মারধর করা হয়। ১ জুন শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকার রাণী স্টোরে কোমল পানীয় কিনতে আসে আট বছর বয়সি এক শিশু। দোকানে ভিড় থাকায় তাকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। পরে সে পানীয় নিয়ে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর শিশুটির মা দোকানে এসে জানতে চান, কেন তার সন্তানকে অপেক্ষা করতে হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি অভিযোগ করেন, দোকানদার শিশুটিকে স্পর্শ করেছেন। পুলিশ বলছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেই কয়েকজন লোক দোকানে জড়ো হন। পরে তারা দোকান মালিক খগেন্দ্র চন্দ্র দাসকে পিটুনি দেয়। এতে তিনি আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনার পর পুলিশ দোকানের সিসিটিভি ভিডিও সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে। ভিডিও ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

সিলেট মহানগরের শাহ পরাণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, "ওই ঘটনায় ব্যবসায়ী খগেন্দ্র চন্দ্র দাসের ছেলে রুবেল দাস ১৩ জনের নাম দিয়ে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলার প্রেক্ষিতে আমরা শিল্পী বেগম (৪২), আহম্মদ হোসেন আরিফ (২৪), আকাশ আহমেদ (২০), রোকেয়া আক্তার (২২) এবং দেলোয়ার হোসেন (৩২) নামে পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করি। কিন্তু তাদের আদালতে হাজির করা পর, বাদি দাবি করেন এদের নাম ভুল করে দেওয়া হয়েছে। ফলে তাদের জামিনে আপত্তি নেই। এমন পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তার আসামিরা জামিন পেয়েছেন। তবে বাদি যাই বলুন না কেন, আমরা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করেছি, একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে, দ্রুতই চার্জশিট দেওয়া হবে।”

বিজেপির বিজয়ে বাংলাদেশে যেমন প্রভাব

ডয়চে ভেলের ঢাকা প্রতিনিধি সমীর কুমার দে৷
সমীর কুমার দে ডয়চে ভেলের ঢাকা প্রতিনিধি৷
স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য

আরো সংবাদ দেখান