1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

আমি আশা করছি ভবিষ্যতে ভালো কিছুই হবে : সাকিব

৬ এপ্রিল ২০২৬

সাকিব আল হাসান বলেছেন, সব সমস্যা দ্রুত সমাধান করে তিনি দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন৷

https://p.dw.com/p/5BjMu
ব্যাট হাতে বাংলাদেশের জার্সিতে সাকিব আল হাসান (ফাইল ফটো)
সাকিব আল হাসান জানান, এই মুহূর্তে তার কাছে ক্রিকেটটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ, ‘‘রাজনীতি তো ধরেন আমৃত্যু করা যায়, রাজনীতিতে অনেক সময় আছে৷ যেটার সময় নেই সেটা হলো ক্রিকেট৷ এটা আগে ঠিক করার চেষ্টা করছি৷ আর রাজনীতি যেটা বলছেন, আমি মনে করি রাজনীতি একটি বড় প্ল্যাটফর্ম, যেখান থেকে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব৷ যদি আমি মানুষের জন্য কিছু করতে পারি, তবে সেটা আমার ভালো লাগবে এবং সেই আশা আমার এখনো আছে৷ সব সময় থাকবে৷’’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘‘পরিস্থিতি সবসময় একরকম থাকে না, পরিবর্তন হয়৷ আমি আশা করছি ভবিষ্যতে একটি স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে, যেখানে সব দল সমান সুযোগ পাবে এবং জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তারা কাকে চায়৷ আমি আশা করছি ভবিষ্যতে ভালো কিছুই হবে৷’’ ছবি: DIBYANGSHU SARKAR/AFP/Getty Images

ডয়চে ভেলের কন্টেন্ট পার্টনার দ্য ডেইলি স্টারকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘আইনি প্রক্রিয়াগুলোর কাজ শুরু হয়েছে৷ এখন যত দ্রুত সম্ভব যদি আমি সমাধান করতে পারি…না না হলে হয়ত সময় লাগবে৷ কিন্তু আমি চেষ্টা করছি দ্রুত যেন সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারি৷ এখন বিষয়গুলো যত দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে, আমি তত দ্রুতই ফিরতে পারবো৷’’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা নাকি কোনো বিদায়ী ম্যাচ খেলে অবসর নেওয়া – কোন ভাবনাকে অগ্রাধিকারে রেখে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন জানতে চাইলে
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দেশে ফিরতে না পারে দীর্ঘদিনে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার বলেন, ‘‘এটা তো আসলে পরের বিষয় (আন্তর্জাতিক ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়া) বা সেকেন্ডারি  বিষয়; আমার প্রথম অগ্রাধিকার হলো দেশে ফেরা৷ বিসিবি বা অন্যদের সাক্ষাৎকার ও মন্তব্যে আমি দেখেছি যে তারা চায় আমি আসি এবং খেলি৷ কিন্তু যেহেতু একটি আইনি প্রক্রিয়া চলছে, তাই এগুলো শুধু মুখে বললে হবে না, বিষয়গুলো সমাধান করে আসতে হবে৷ যেহেতু আমি দূরে আছি, আমার হয়ে এই কাজগুলো যদি বিসিবি করতো, আমার জন্য সহজ হতো৷ আমি বলছি না একদমই করেনি, কিন্তু আরেকটু ভালোভাবে করা গেলে তাড়াতাড়ি সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা থাকতো৷ যেহেতু সেটা হয়নি, দেরি হচ্ছে, আমি তাই আমার মতো করে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি ...৷’’ 

মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল-এর ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইটরাইডার্স থেকে বাদ দেয়ার প্রতিবাদে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ২০২৬ সালের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি৷ এ বিষয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা হয় কিনা, কথা হলে তারা কী বলেন জানতে চাইলে সাকিব আল হাসান বলেন, ‘‘হ্যাঁ, অনেকের সঙ্গে কথাই হয়৷ ফোন দেয় অনেকেই, তখন তাদের সঙ্গে কথা তো হয়৷ বিশ্বকাপ না খেলাটা অবশ্যই হতাশাজনক৷ ওই সময় সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আসলে তার উপর তো বিসিবি কথা বলতে পারে না৷ এটা সম্ভব ছিল না। তৎকালীন সরকারের কিছু সিদ্ধান্তের কারণেই আসলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যার দায় ওই সময়ের সরকারের ওপরেই বর্তায়৷ কারণ তাদের সিদ্ধান্তের কারণেই বিশ্বকাপ খেলাটা হয় নাই৷’’ এর ফলে ক্রিকেটারদের কত বড় ক্ষতি হয়েছে তা উল্লেখ করতে গিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসের সফলতম ক্রিকেটার বলেন, ‘‘একটি বড় টুর্নামেন্ট বা বিশ্বকাপ খেলতে না পারাটা অত্যন্ত কষ্টের৷ ধরেন এবার যারা খেলত, পরের বিশ্বকাপে তাদের অনেকেই নিশ্চিতভাবে থাকবে না৷ তাদের মধ্যে যদি কারো এটা প্রথম বিশ্বকাপ হতো, দেখা গেলো তার আর বিশ্বকাপই খেলা হলো না কোনোদিন৷ বিশেষ করে যাদের জন্য এটি প্রথম বা শেষ বিশ্বকাপ হতে পারতো, তাদের জন্য আজীবন একটি আক্ষেপ থেকে যাবে৷’’

ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ করার আগেই রাজনীতিতে যোগ দেয়া সাকিব দ্য ডেইলি স্টারের একুশ তপাদারকে দেয়া এ সাক্ষাৎকারে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেছেন৷ তিনি জানান, এই মুহূর্তে তার কাছে ক্রিকেটটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ, ‘‘রাজনীতি তো ধরেন আমৃত্যু করা যায়, রাজনীতিতে অনেক সময় আছে৷ যেটার সময় নেই সেটা হলো ক্রিকেট৷ এটা আগে ঠিক করার চেষ্টা করছি৷ আর রাজনীতি যেটা বলছেন, আমি মনে করি রাজনীতি একটি বড় প্ল্যাটফর্ম, যেখান থেকে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব৷ যদি আমি মানুষের জন্য কিছু করতে পারি, তবে সেটা আমার ভালো লাগবে এবং সেই আশা আমার এখনো আছে৷ সব সময় থাকবে৷’’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘‘পরিস্থিতি সবসময় একরকম থাকে না, পরিবর্তন হয়৷ আমি আশা করছি ভবিষ্যতে একটি স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে, যেখানে সব দল সমান সুযোগ পাবে এবং জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তারা কাকে চায়৷ আমি আশা করছি ভবিষ্যতে ভালো কিছুই হবে৷’’ 

বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পেশাদার খেলোয়াড়দের রাজনীতি থেকে দূরে থাকার যে আহ্বান জানিয়েছেন, সেটিকে কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাবিক আল হাসান বলেন, ‘‘দেখুন, আমার কাছে মনে হয়, প্রতিটা বাংলাদেশের নাগরিকের এই ব্যাপারে নিজস্ব মতামত আছে৷ প্রধানমন্ত্রী উনার জায়গা থেকে যেটা ভালো মনে হয়েছে বলেছেন৷ এটা ওনার ব্যক্তিগত মতামত এবং আমি সেটিকে সম্মান করি৷’’

জুলাই আন্দোলনে নিহতদের বিষয়ে সাকিবের বক্তব্য, ‘‘কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়, প্রতিটা মৃত্যুই বেদনাদায়ক৷ প্রতিটি জীবনই অমূল্য৷ আমি আগেও এটা বহুবার বলেছি৷ আমি চাই প্রতিটা ঘটনার সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হয়ে বিচার নিশ্চিত করা হোক৷ কিন্তু কাউকে যেন অন্যায়ভাবে ফাঁসানো না হয়৷’’ 

চলমান মামলাগুলোর বিষয়ে সাবিক আল হাসান বলেন, ‘‘এটা তো আপনারা সবাই দেখছেন আমার বিরুদ্ধে যে মামলাগুলো করা হয়েছে সেগুলোর কোনো প্রমাণ নাই, কোনো ভিত্তি নেই, এটা সবাই বলছে- যা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও উঠে এসেছে৷ বাংলাদেশের সিষ্টেমে চাইলে আপনি দ্রুততম সময়ে শেষ করতে পারেন আবার অনেক সময় নিয়ে শেষ করতে পারেন৷ এটা হচ্ছে আপনার সদিচ্ছার বিষয়৷ ভাবতে পারেন যে না, ‘একটা মানুষ আসলে কোনো অন্যায় করে নাই, তাকে শুধু শুধু সাফারার করার কোনো দরকার নাই৷’ কেবল আপনি আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে আমাকেও আক্রান্ত করবেন জিনিসটা আমার কাছে ভালো মনে হয় না৷ এরকম চলতে থাকলে দেশের কোনো পরিবর্তন আসবে না৷ কিন্তু আশা করি…বর্তমান সরকারের সময় খুবই অল্প এখনো৷ তারা বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে দেখবে এবং যারা নিরপরাধ তারা যেন সঠিক বিচার পায়৷ এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যেই হবে৷ আগে কেউ সাফার করেছেন বলে এখন অন্যদেরও সাফার করাতে হবে—এই মানসিকতা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে৷’’

এসিবি/ জেডএইচ (দ্য ডেইলি স্টার)