মারি-লুইস ইটা : বুন্ডেসলিগায় পুরুষ দলের প্রথম নারী কোচ
১৩ এপ্রিল ২০২৬
জার্মানির ফুটবল ক্লাব ইউনিয়ন বার্লিন-এর পুরুষ দলের প্রধান কোচ হয়েছেন তিনি৷ ইউরোপীয় ফুটবলের শীর্ষ পাঁচ লীগের কোনো সিনিয়র ক্লাবে এমন নজির এই প্রথম৷ জার্মানির বুন্ডেসলিগা, যুক্তরাজ্যের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, স্পেনের লা লিগা, ইটালির সিরি আ কিংবা ফ্রান্সের লিগ আঁ – ইউরোপের সেরা পাঁচ পেশাদার লিগের প্রথম নারী কোচ মারি- লুইস ইটা৷
সময়টা খুব খারাপ যাচ্ছিল ইউনিয়ন বার্লিনের প্রধান কোচ স্টেফেন বাউমগার্টের৷ শনিবার বুন্ডেসলিগার পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা হাইডেনহাইমের কাছেও ১-৩ গোলে হেরেছে তার দল৷ এর ফলে ২০২৬ সালের বুন্ডেসলিগায় মাত্র দুটি জয় নিয়ে এখন রেলিগেশনের ঝুঁকির মুখে ইউনিয়ন বার্লিন৷ ক্লাবকে চরম লজ্জার হাত থেকে বাঁচাতে তাই স্টেফেন বাউমগার্টকে বরখাস্ত করে মারি-লুইস ইটার হাতে গুরুদায়িত্ব তুলে দিয়েছে ক্লাব ম্যানেজমেন্ট৷
আপাতত দায়িত্বটা অবশ্য অন্তর্বর্তীকালীন৷ এতদিন ইউনিয়ন বার্লিন-এর অনূর্ধ্ব-১৯ পুরুষ দলের কোচের দায়িত্বে ছিলেন ইটা৷ শনিবারের হারের পর মৌসুমের বাকি পাঁচ ম্যাচের জন্য প্রধান কোচের দায়িত্ব দেয়া হয় তাকে৷
মারি-লুইস ইটা জানিয়েছেন নতুন দায়িত্ব অবিলম্বে গ্রহণ করবেন৷ হাতে সময় এমনিতেও খুব কম৷ আগামী শনিবার নিজেদের মাঠে পয়েন্ট তালিকার তলানির আরেক দল ভিএফএল ভলফসবুর্গের মুখোমুখি হবে ইউনিয়ন বার্লিন৷ অবনমন এড়াতে সেই ম্যাচে জয় চাইই চাই৷
তার উঠে আসা
ইউনিয়ন বার্লিনের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ হয়ে আন্তর্জাতিক খবরের শিরোনাম হলেও ড্রেসডেনে জন্ম নেওয়া মারি লুইস ইটার পুরুষ দলের কোচ হওয়া নতুন কিছু নয়৷ সাবেক প্রধান কোচ উরস ফিশারকে বরখাস্ত করার পর মার্কো গ্রোটে যখন অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হলেন, ইউনিয়ন বার্লিনে তখন তার সহকারীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন ইটা৷ পরে নেনাদ বিয়েলিকার অধীনেও কাজ করেছেন এবং সেই সুবাদে হয়েছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ইতিহাসে প্রথম নারী সহকারী কোচ৷
খেলোয়াড়ি জীবনেও যথেষ্ট সফল ইটা৷ টারবাইন পটসডামের হয়ে নারীদের বুন্ডেসলিগা জিতেছেন তিনবার৷ নারীদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগও জিতেছেন ২০১০ সালে৷
এর আগে জার্মানির জার্সি গায়ে বয়সভিত্তিক ফুটবলেও পেয়েছেন দুর্দান্ত সব সাফল্য৷
অনূর্ধ্ব-১৫ থেকে অনূর্ধ্ব-২৩ পর্যন্ত বয়সভিত্তিক প্রতিটি স্তরে করেছেন জার্মানির প্রতিনিধিত্ব৷ ২০০৮ সালে জিতেছেন মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৭ ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ ও ২০১০ সালে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ৷ এত সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ারে ইতি টানে ইনজুরি৷ এ কারণে মাত্র ২৬ বছর বয়সে বুট জোড়া তুলে রাখতে বাধ্য হন মারি-লুইস ইটা৷
তবে খেলা ছাড়লেও ফুটবল থেকে দূরে সরেননি৷২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উয়েফা প্রো লাইসেন্স পেয়ে যান এবং এর ফলে হয়ে যায় পুরুষদের পেশাদার কোনো ফুটবল দলের দায়িত্ব নেওয়ার প্রাথমিক যোগ্যতা৷ তারপর পুরুষদের সেরা আসরগুলোতে প্রথম নারী কোচ হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়তে কিন্তু খুব বেশি সময় নেননি মারি-লুইস ইটা৷
ম্যাট ফোর্ড/ এসিবি