1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান
রাজনীতিযুক্তরাষ্ট্র

ট্রাম্পের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ‘জনমত'

২১ এপ্রিল ২০২৬

রয়টার্স এবং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইপসোস-এর ছয় দিন ধরে চালানো এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ৩৬% মানুষ ডনাল্ড ট্রাম্পের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট৷

https://p.dw.com/p/5CbVK
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ডনাল্ড ট্রাম্প
ইরান যুদ্ধের কারণে পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ নাগরিককে আর্থিক চাপে ফেলেছে৷ এ অবস্থায় জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের পদক্ষেপে সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ২৬% মানুষ৷ ২৬% বলেছেন, ইরানে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ খরচের তুলনায় সার্থক হয়েছে৷ মাত্র ২৫% উত্তরদাতা মনে করেন, ইরানে হামলা চালানোয় যুক্তরাষ্ট্র আরো নিরাপদ হবে৷ছবি: Alex Brandon/AP Photo/dpa/picture alliance

২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয়বার শপথ নেয়ার পর এমন মানুষ ছিল ৪৭%৷

ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প৷ ইরান যুদ্ধের প্রভাবে পেট্রোলের দাম অনেক বেড়েছে৷ অনলাইনে পরিচালিত এই জরিপে অংশ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের চার হাজার ৫৫৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক৷ তাদের মধ্যে প্রায় ৩৬% ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে সমর্থন করেছেন৷ ১০ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত চালানো রয়টার্স/ইপসোস-এর আরেক জরিপে এই হার ছিল ৩৫%৷

তবে সর্বশেষ জরিপটিতে দেখা গেছে, ট্রাম্পের ধারাবাহিক বিস্ফোরক আচরণে তার রিপাবলিকান পার্টির কিছু সদস্যসহ যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নাগরিকই ৭৯ বছর বয়সি প্রেসিডেন্টের মেজাজ এবং মানসিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন৷ মাত্র ২৬% অংশগ্রহণকারী বলেছেন, তারা ট্রাম্পকে ‘শান্ত স্বভাবের' মনে করেন৷ তবে শুধু রিপাবলিকানদের মধ্যে এই হারটা অনেক বেশি৷ ৫৩% রিপাবলিকান ট্রাম্পকে শান্ত স্বভাবের মনে করেন৷ অবশ্য ৪৬%-এর মত সম্পূর্ণ বিপরীত৷ জরিপে অংশ নেয়া মানুষদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটও ছিলেন৷ তাদের মধ্যে মাত্র ৭% বলেছেন ডনাল্ড জন ট্রাম্প শান্ত স্বভাবের৷

জনমনে ট্রাম্পের অশালীন হুমকির প্রতিক্রিয়া

সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প নানা ধরনের ‘আপত্তিকর' বক্তব্য রেখেছেন৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইরানের সভ্যতা নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দিতে দেখা গেছে তাকে৷ ইরান যুদ্ধের বিষয়ে সমালোচনামুখর হওয়ায় পোপ লিও-র সম্পর্কে ট্রাম্পের কটাক্ষপূর্ণ মন্তব্য ছিল - তিনি ‘অপরাধ দমনে দুর্বল'৷ এছাড়া ইরানের সব সেতু এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংস করার হুমকিও দিয়েছেন – কিছু ক্ষেত্রে ভাষার ‘শালীনতা'ও রক্ষা করেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট৷

এর আগে চলতি বছরের শুরুতে তিনি ‘ন্যাটো মিত্র' ডেনমার্কের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুমকি দেন৷ বিষয়টি ‘মিত্রদের' শঙ্কিত করেছিল, কারণ, ডেনমার্কের অংশ গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করতে চান ট্রাম্প৷

রয়টার্স/ইপসোস-এর সর্বশেষ জরিপে অংশ নেয়া প্রায় ৫১% অ্যামেরিকান বলেছেন, তারা মনে করেন, গত এক বছরে ট্রাম্পের ‘মানসিক তীক্ষ্ণতা' অনেক কমেছে৷

পোপের বিরুদ্ধে তোপের প্রতিক্রিয়া

প্রায় ৬০% উত্তরদাতা পোপ লিও-র পাশে দাঁড়িয়েছেন, অন্যদিকে ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়েছেন ৩৬%৷

জরিপে অংশ নেয়া মাত্র ১৬% অ্যামেরিকান ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়াকে সমর্থন করেছেন৷ বছরের শুরুতে এমন হুমকিই দিয়েছিলেন ট্রাম্প৷

ইরান যুদ্ধের কারণে পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ নাগরিককে আর্থিক চাপে ফেলেছে৷ এ অবস্থায় জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের পদক্ষেপে সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ২৬% মানুষ৷ ২৬% বলেছেন, ইরানে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ খরচের তুলনায় সার্থক হয়েছে৷ মাত্র ২৫% উত্তরদাতা—যাদের মধ্যে ৬% ডেমোক্র্যাট এবং ৫৭% রিপাবলিকান—বলেছেন, তারা মনে করেন, ইরানে হামলা চালানোয় যুক্তরাষ্ট্র আরো নিরাপদ হবে৷

এসিবি/ জেডএইচ (রয়টার্স)